Bangladesh ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন কড়াইবাড়ি থেকে হায়দরাবাদ সড়কের প্রবেশ মুখে মরণফাদ ব্রিজ। মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কনে আঘাত হানল ইরানি ড্রোন কুমিল্লার বাঙ্গরা থানার রামচন্দ্রপুর থেকে ৫০ পিছ ইয়াবাসহ গ্রেফতার ১ কুমিল্লায় ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেফতার নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি, খোঁজ নিয়ে উপহার পাঠালেন মন্ত্রী কায়কোবাদ কুমিল্লার বাঙ্গরা বাজারে মাদকসহ যুবক গ্রেফতার মুরাদনগরে শামীমা আক্তার রুবীকে মহিলা সংরক্ষিত আসনে এমপি হিসেবে দেখতে চায় জনগণ কুমিল্লা-৩ আসনে ‘ডাবল হ্যাটট্রিক’ করা কায়কোবাদ মন্ত্রিসভায় থাকার গুঞ্জন মুরাদনগরে কায়কোবাদের পক্ষে মুক্তিযোদ্ধাদের সমর্থন ঘোষণা পানির অভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া বইদ্দার বিলে করা হয়েছে সেচের ব্যবস্থা, পাঁচ গ্রামের কৃষকদের পাশে দাঁড়ালেন কায়কোবাদ

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন কড়াইবাড়ি থেকে হায়দরাবাদ সড়কের প্রবেশ মুখে মরণফাদ ব্রিজ।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৩:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৫৬২৭৫ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন কড়াইবাড়ি থেকে হায়দরাবাদ সড়কের প্রবেশ মুখে মরণফাদ ব্রিজ।

তিন দশকের ব্রিজ এখন ‘মরণ ফাঁদ’: মুরাদনগরে ২০ হাজার মানুষের আর্তনাদ শুনবে কে?

সাইফুল সরকার, মুরাদনগর (কুমিল্লা)

চলার পথে হঠাৎ থেমে যায় চাকা, সামনেই হাঁ করে আছে এক বিশাল গর্ত। এ কোনো দুঃস্বপ্ন নয়, কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন কড়ইবাড়ী থেকে হায়দরাবাদ সড়কের প্রবেশমুখের প্রতিদিনের চিত্র। ১৯৯২ সালে নির্মিত ব্রিজটি এখন এলাকাবাসীর কাছে অভিশাপের নাম। যেখানে জননিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার কথা, সেখানে ব্রিজটি নিজেই এখন এক ‘মরণ ফাঁদ’।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, দীর্ঘ ৩৩ বছর আগে নির্মিত এই ব্রিজটির আয়ু ফুরিয়েছে অনেক আগেই। গত দুই বছর ধরে ব্রিজের মাঝখানের কাঠামো (টেম্বার) ভেঙে সৃষ্টি হয়েছে বড় গর্ত। স্থানীয়রা জানান, মাঝে মধ্যে দায়সারাভাবে সিমেন্টের প্রলেপ দিয়ে গর্ত ঢাকার চেষ্টা করা হলেও কয়েকদিন পরেই তা আবার কঙ্কালসার হয়ে বেরিয়ে পড়ে। গত পাঁচ মাসে এই দুর্ভোগ রূপ নিয়েছে চরমে।

আকবপুরসহ আশপাশের অন্তত তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াত এই এক চিলতে ভাঙা ব্রিজের ওপর দিয়ে। বিশেষ করে সিএনজি ও অটোরিকশা চালকদের জন্য এটি যমদূত হয়ে দাঁড়িয়েছে। অটোরিকশা চালক শিমুল ও শরীফ মিয়া ক্ষোভের সাথে বলেন, “পেটের দায়ে গাড়ি চালাই, কিন্তু প্রতিবার এই ব্রিজ পার হওয়ার সময় মনে হয় আজই বুঝি শেষ দিন। চাকা গর্তে পড়ে গাড়ি উল্টে অহরহ যাত্রী আহত হচ্ছে।”

এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় আকবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লাল একটি ট্রিপল মার্ডার মামলায় পলাতক থাকায় অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে ইউনিয়নটি। ফলে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সমস্যা সমাধানে নেই কোনো স্থানীয় উদ্যোগ। অন্যদিকে, দুই বছর ধরে জনদুর্ভোগ চললেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ।

এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণ কিছুটা আশার কথা শুনিয়েছেন। তিনি জানান, “ব্রিজটির নাজুক অবস্থার কথা আমরা জানি। মেরামতের জন্য সম্ভবত একটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই কাজ শুরু হবে।”

কাগজে-কলমে বরাদ্দ কিংবা মৌখিক আশ্বাস আর শুনতে চায় না এলাকাবাসী। তাদের দাবি, কোনো বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটার আগেই যেন এই ‘মরণ ফাঁদ’ অপসারণ করে একটি টেকসই ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। ২০ হাজার মানুষের এই নিরাপদ পথচলার দাবি এখন সময়ের প্রয়োজনে গণদাবিতে পরিণত হয়েছে।৷

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

SAYFUL SARKER

পরিচালক ও প্রকাশক দেশ আমার24 মুরাদনগর উপজেলা, কুমিল্লা। +60183576704

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন কড়াইবাড়ি থেকে হায়দরাবাদ সড়কের প্রবেশ মুখে মরণফাদ ব্রিজ।

আপডেট সময় : ০৪:৩৩:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন কড়াইবাড়ি থেকে হায়দরাবাদ সড়কের প্রবেশ মুখে মরণফাদ ব্রিজ।

তিন দশকের ব্রিজ এখন ‘মরণ ফাঁদ’: মুরাদনগরে ২০ হাজার মানুষের আর্তনাদ শুনবে কে?

সাইফুল সরকার, মুরাদনগর (কুমিল্লা)

চলার পথে হঠাৎ থেমে যায় চাকা, সামনেই হাঁ করে আছে এক বিশাল গর্ত। এ কোনো দুঃস্বপ্ন নয়, কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন কড়ইবাড়ী থেকে হায়দরাবাদ সড়কের প্রবেশমুখের প্রতিদিনের চিত্র। ১৯৯২ সালে নির্মিত ব্রিজটি এখন এলাকাবাসীর কাছে অভিশাপের নাম। যেখানে জননিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার কথা, সেখানে ব্রিজটি নিজেই এখন এক ‘মরণ ফাঁদ’।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, দীর্ঘ ৩৩ বছর আগে নির্মিত এই ব্রিজটির আয়ু ফুরিয়েছে অনেক আগেই। গত দুই বছর ধরে ব্রিজের মাঝখানের কাঠামো (টেম্বার) ভেঙে সৃষ্টি হয়েছে বড় গর্ত। স্থানীয়রা জানান, মাঝে মধ্যে দায়সারাভাবে সিমেন্টের প্রলেপ দিয়ে গর্ত ঢাকার চেষ্টা করা হলেও কয়েকদিন পরেই তা আবার কঙ্কালসার হয়ে বেরিয়ে পড়ে। গত পাঁচ মাসে এই দুর্ভোগ রূপ নিয়েছে চরমে।

আকবপুরসহ আশপাশের অন্তত তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াত এই এক চিলতে ভাঙা ব্রিজের ওপর দিয়ে। বিশেষ করে সিএনজি ও অটোরিকশা চালকদের জন্য এটি যমদূত হয়ে দাঁড়িয়েছে। অটোরিকশা চালক শিমুল ও শরীফ মিয়া ক্ষোভের সাথে বলেন, “পেটের দায়ে গাড়ি চালাই, কিন্তু প্রতিবার এই ব্রিজ পার হওয়ার সময় মনে হয় আজই বুঝি শেষ দিন। চাকা গর্তে পড়ে গাড়ি উল্টে অহরহ যাত্রী আহত হচ্ছে।”

এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় আকবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লাল একটি ট্রিপল মার্ডার মামলায় পলাতক থাকায় অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে ইউনিয়নটি। ফলে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সমস্যা সমাধানে নেই কোনো স্থানীয় উদ্যোগ। অন্যদিকে, দুই বছর ধরে জনদুর্ভোগ চললেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ।

এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণ কিছুটা আশার কথা শুনিয়েছেন। তিনি জানান, “ব্রিজটির নাজুক অবস্থার কথা আমরা জানি। মেরামতের জন্য সম্ভবত একটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই কাজ শুরু হবে।”

কাগজে-কলমে বরাদ্দ কিংবা মৌখিক আশ্বাস আর শুনতে চায় না এলাকাবাসী। তাদের দাবি, কোনো বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটার আগেই যেন এই ‘মরণ ফাঁদ’ অপসারণ করে একটি টেকসই ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। ২০ হাজার মানুষের এই নিরাপদ পথচলার দাবি এখন সময়ের প্রয়োজনে গণদাবিতে পরিণত হয়েছে।৷