Bangladesh ১২:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মুরাদনগরে জীবিত তরুণীকে ‘মৃত’ সাজিয়ে মৃত্যু সনদ, অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সংরক্ষিত আসনে আলোচনায় বিএনপির যেসব মহিলা নেত্রীরা কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন কড়াইবাড়ি থেকে হায়দরাবাদ সড়কের প্রবেশ মুখে মরণফাদ ব্রিজ। মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কনে আঘাত হানল ইরানি ড্রোন কুমিল্লার বাঙ্গরা থানার রামচন্দ্রপুর থেকে ৫০ পিছ ইয়াবাসহ গ্রেফতার ১ কুমিল্লায় ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেফতার নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি, খোঁজ নিয়ে উপহার পাঠালেন মন্ত্রী কায়কোবাদ কুমিল্লার বাঙ্গরা বাজারে মাদকসহ যুবক গ্রেফতার মুরাদনগরে শামীমা আক্তার রুবীকে মহিলা সংরক্ষিত আসনে এমপি হিসেবে দেখতে চায় জনগণ

মুরাদনগরে জীবিত তরুণীকে ‘মৃত’ সাজিয়ে মৃত্যু সনদ, অভিযুক্ত ইউপি সদস্য

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৬:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৫৬৩০৫ বার পড়া হয়েছে

ক্যাপশন: ছবি আছে জীবিত তরুণী মোসা:মর্জিনার ও অভিযুক্ত ফিরোজ আহমেদ মেম্বারের।

সাইফুল সরকার মুরাদনগর  (কুমিল্লা):
কুমিল্লার মুরাদনগরে এক জীবিত তরুণীকে মৃত দেখিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মৃত্যুর সনদ দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। আপন ফুফাতো ভাইয়ের জালিয়াতি এবং স্থানীয় ইউপি সদস্যের অবিবেচনাপ্রসূত প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে এই সনদ ইস্যু করা হয়। বর্তমানে জীবিত থেকেও কাগজে-কলমে ‘মৃত’ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন ভুক্তভোগী মোসাঃ মর্জিনা। নাগরিক অধিকার ফিরে পেতে তিনি এখন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ভুক্তভোগী মর্জিনা উপজেলার ১৬নং ধামঘর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের রৌশন আলীর মেয়ে। প্রায় এক বছর আগে তার ফুফাতো ভাই ইয়ামিন (লক্ষ্মীপুর গ্রামের আব্দুল আলিমের ছেলে) মর্জিনার জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপি চেয়ে নেন, তার বোন হালিমাকে কুমিল্লা ইপিজেডে চাকরি দেওয়ার জন্য। একদিকে বোনকে চাকরি দেন অপর দিকে সেই সনদ ব্যবহার করে ইয়ামিন নিজের স্ত্রীকে ‘মর্জিনা’ সাজিয়ে ব্র্যাক এনজিওর অশোকতলা শাখা থেকে ৮০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। গত ১৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে ইয়ামিনের প্রকৃত স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার মারা গেলে, ঋণের কিস্তির টাকা মওকুফ করার হীন উদ্দেশ্যে ইয়ামিন পুনরায় জালিয়াতির আশ্রয় নেন। তিনি মর্জিনাকে মৃত দেখিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যের কাছ থেকে একটি মৃত্যুর প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
নিজের অস্তিত্ব প্রমাণে লড়াই করা মর্জিনা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি জীবিত থাকা অবস্থায় আমার জন্ম নিবন্ধন দিয়ে মৃত্যুর সনদ ইস্যু হলো কীভাবে? ইউপি সদস্য যাচাই না করেই কেন প্রত্যয়ন দিলেন? আমি এই জালিয়াতির বিচার চাই।” ভুক্তভোগীর মা সাজিয়া বেগম জানান, জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ার পর ইউনিয়ন পরিষদে ঘুরলেও চেয়ারম্যান বা সচিব তাদের কোনো সদুত্তর দিচ্ছেন না। উল্টো হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
অভিযুক্ত ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) ফিরোজ আহমেদ নিজের দায় স্বীকার করে বলেন, ইয়ামিনের স্ত্রী মারা গেছে শুনে আমি বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে মৃত্যুর প্রত্যয়ন দিয়েছিলাম। কিন্তু ইয়ামিন যে জালিয়াতি করে মর্জিনার সনদ ব্যবহার করেছে, তা পরে বুঝতে পেরেছি।
ধামঘর ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) নাইম সরকার জানান, মেম্বারের প্রত্যয়ন পেয়েই নিয়ম অনুযায়ী সনদ ইস্যু করা হয়েছে। বর্তমানে ওই মৃত্যু সনদটি বাতিল করে পূর্বের জন্ম নিবন্ধন সচল করার প্রক্রিয়া চলছে।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অলিউল্লাহ বলেন, আবেদনকারীর আবেদনের প্রেক্ষিতে মেম্বারের প্রত্যয়ন অনুযায়ী সচিব সনদ ইস্যু করেন। সচিবের স্বাক্ষরের পর আমি তাতে স্বাক্ষর করি। এর বাইরে আমি কিছু জানি না।
মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ বি এম সারোয়ার রাব্বী বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে জালিয়াতি চক্র ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, তৃণমূল জনপ্রতিনিধিদের ‘অন্ধ বিশ্বাস’ আর এনজিও ঋণের বেড়াজালে সাধারণ মানুষের নাগরিক অধিকার আজ হুমকির মুখে। এই জালিয়াতি চক্রের কঠোর শাস্তি না হলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সুমন আরমান

মুরাদনগর উপজেলা, কুমিল্লা। পরিচালক ও প্রকাশক দেশ আমার 24 যোগাযোগ: +88 01820503698
ট্যাগস :

মুরাদনগরে জীবিত তরুণীকে ‘মৃত’ সাজিয়ে মৃত্যু সনদ, অভিযুক্ত ইউপি সদস্য

আপডেট সময় : ০৩:৩৬:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

ক্যাপশন: ছবি আছে জীবিত তরুণী মোসা:মর্জিনার ও অভিযুক্ত ফিরোজ আহমেদ মেম্বারের।

সাইফুল সরকার মুরাদনগর  (কুমিল্লা):
কুমিল্লার মুরাদনগরে এক জীবিত তরুণীকে মৃত দেখিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মৃত্যুর সনদ দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। আপন ফুফাতো ভাইয়ের জালিয়াতি এবং স্থানীয় ইউপি সদস্যের অবিবেচনাপ্রসূত প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে এই সনদ ইস্যু করা হয়। বর্তমানে জীবিত থেকেও কাগজে-কলমে ‘মৃত’ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন ভুক্তভোগী মোসাঃ মর্জিনা। নাগরিক অধিকার ফিরে পেতে তিনি এখন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ভুক্তভোগী মর্জিনা উপজেলার ১৬নং ধামঘর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের রৌশন আলীর মেয়ে। প্রায় এক বছর আগে তার ফুফাতো ভাই ইয়ামিন (লক্ষ্মীপুর গ্রামের আব্দুল আলিমের ছেলে) মর্জিনার জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপি চেয়ে নেন, তার বোন হালিমাকে কুমিল্লা ইপিজেডে চাকরি দেওয়ার জন্য। একদিকে বোনকে চাকরি দেন অপর দিকে সেই সনদ ব্যবহার করে ইয়ামিন নিজের স্ত্রীকে ‘মর্জিনা’ সাজিয়ে ব্র্যাক এনজিওর অশোকতলা শাখা থেকে ৮০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। গত ১৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে ইয়ামিনের প্রকৃত স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার মারা গেলে, ঋণের কিস্তির টাকা মওকুফ করার হীন উদ্দেশ্যে ইয়ামিন পুনরায় জালিয়াতির আশ্রয় নেন। তিনি মর্জিনাকে মৃত দেখিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যের কাছ থেকে একটি মৃত্যুর প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
নিজের অস্তিত্ব প্রমাণে লড়াই করা মর্জিনা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি জীবিত থাকা অবস্থায় আমার জন্ম নিবন্ধন দিয়ে মৃত্যুর সনদ ইস্যু হলো কীভাবে? ইউপি সদস্য যাচাই না করেই কেন প্রত্যয়ন দিলেন? আমি এই জালিয়াতির বিচার চাই।” ভুক্তভোগীর মা সাজিয়া বেগম জানান, জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ার পর ইউনিয়ন পরিষদে ঘুরলেও চেয়ারম্যান বা সচিব তাদের কোনো সদুত্তর দিচ্ছেন না। উল্টো হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
অভিযুক্ত ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) ফিরোজ আহমেদ নিজের দায় স্বীকার করে বলেন, ইয়ামিনের স্ত্রী মারা গেছে শুনে আমি বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে মৃত্যুর প্রত্যয়ন দিয়েছিলাম। কিন্তু ইয়ামিন যে জালিয়াতি করে মর্জিনার সনদ ব্যবহার করেছে, তা পরে বুঝতে পেরেছি।
ধামঘর ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) নাইম সরকার জানান, মেম্বারের প্রত্যয়ন পেয়েই নিয়ম অনুযায়ী সনদ ইস্যু করা হয়েছে। বর্তমানে ওই মৃত্যু সনদটি বাতিল করে পূর্বের জন্ম নিবন্ধন সচল করার প্রক্রিয়া চলছে।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অলিউল্লাহ বলেন, আবেদনকারীর আবেদনের প্রেক্ষিতে মেম্বারের প্রত্যয়ন অনুযায়ী সচিব সনদ ইস্যু করেন। সচিবের স্বাক্ষরের পর আমি তাতে স্বাক্ষর করি। এর বাইরে আমি কিছু জানি না।
মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ বি এম সারোয়ার রাব্বী বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে জালিয়াতি চক্র ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, তৃণমূল জনপ্রতিনিধিদের ‘অন্ধ বিশ্বাস’ আর এনজিও ঋণের বেড়াজালে সাধারণ মানুষের নাগরিক অধিকার আজ হুমকির মুখে। এই জালিয়াতি চক্রের কঠোর শাস্তি না হলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।