Bangladesh ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেবিদ্বারের বড়শালঘর ইউএমএ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি হতে আওয়ামী লীগ নেতার দৌড়ঝাঁপ মুরাদনগরে জীবিত তরুণীকে ‘মৃত’ সাজিয়ে মৃত্যু সনদ, অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সংরক্ষিত আসনে আলোচনায় বিএনপির যেসব মহিলা নেত্রীরা কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন কড়াইবাড়ি থেকে হায়দরাবাদ সড়কের প্রবেশ মুখে মরণফাদ ব্রিজ। মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কনে আঘাত হানল ইরানি ড্রোন কুমিল্লার বাঙ্গরা থানার রামচন্দ্রপুর থেকে ৫০ পিছ ইয়াবাসহ গ্রেফতার ১ কুমিল্লায় ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেফতার নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি, খোঁজ নিয়ে উপহার পাঠালেন মন্ত্রী কায়কোবাদ কুমিল্লার বাঙ্গরা বাজারে মাদকসহ যুবক গ্রেফতার

কুমিল্লার মুরাদনগরে নির্ধারিত সময়ের পরেও সড়কের কাজ না করেই বিল দাবি করেছেন এক যুবলীগ নেতা। বিল দাবি করেই ক্ষান্ত হননি তিনি। বিল এবং উপজেলা প্রকৌশলীর প্রত্যাহার দাবিতে করেছেন মানববন্ধনও।

SAYFUL SARKER
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৬:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১৫৭০৯২ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লার মুরাদনগরে নির্ধারিত সময়ের পরেও সড়কের কাজ না করেই বিল দাবি করেছেন এক যুবলীগ নেতা। বিল দাবি করেই ক্ষান্ত হননি তিনি। বিল এবং উপজেলা প্রকৌশলীর প্রত্যাহার দাবিতে করেছেন মানববন্ধনও।

এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি রজ্জব হোসেন রাজুর বিরুদ্ধে। সারাদেশে চলমান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেস টু’-তে আওয়ামী লীগের পদধারী নেতাকর্মীরা গ্রেফতার হলেও ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা রজ্জব হোসেন রাজু সর্বত্র দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। তারা আরও জানান, প্রশাসনকে বিতর্কিত করতে তিনি বিভিন্ন ছক কষছেন।

জানা যায়, ২০২৩ সালের ২ মার্চ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) থেকে মুরাদনগর উপজেলার দীঘিরপাড়–কুড়াখাল–ব্রাহ্মণচাপিতলা সড়কের ৮২২ মিটার সংস্কার ও উন্নয়ন কাজের অনুমোদন পায় যুবলীগ নেতা রজ্জব হোসেন রাজুর মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাহাত এন্টারপ্রাইজ। যার প্রাক্কলিত মূল্য ধরা হয় ৮৫ লাখ ৪৩ হাজার ১৯৭ টাকা।

চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ৯ মার্চ ২০২৩ তারিখে কাজ শুরু করে ৮ মার্চ ২০২৪ তারিখের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হলে প্রতিদিন নির্ধারিত মূল্যের ০.০৫ শতাংশ হারে জরিমানার বিধান রয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের পর আরও প্রায় ১৮ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কাজ শেষ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।

উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর প্রায় দুই বছর হতে চললেও কাজের অগ্রগতি হয়েছে টেনেটুনে মাত্র ৪০ শতাংশ। এই সময়ের মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ১৭ লাখ ৭২ হাজার টাকার বিলের জন্য সুপারিশ করা হয়। কিন্তু গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে ঠিকাদার জানান, তিনি এই সড়কের কাজটি আর করবেন না।

ঠিকাদারি চুক্তি অনুযায়ী বিলম্বজনিত জরিমানা ও বাস্তবায়িত কাজের বিল সমন্বয় করে সরকার ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রায় ৬ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। সরকারি পাওনা পরিশোধ না করে উল্টো উপজেলা প্রকৌশলী বিল দিচ্ছেন না—এমন অভিযোগ তুলে ঘুষ দাবির মিথ্যা নাটক সাজিয়ে মানববন্ধন করেছেন তিনি।

এদিকে, গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের কাজ তিন বছরেও শেষ না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় জনগণ। তাদের দাবি, সরকার মুরাদনগর উপজেলার মানোন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দিলেও এই যুবলীগ নেতার কারণে তারা এখনো এর সুফল পাননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার ও যুবলীগ নেতা রজ্জব হোসেন রাজু কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “কাজটি পাওয়ার পর আওয়ামী লীগের দলীয় লোকজনের বাধার কারণে আমি সঠিক সময়ে কাজ শেষ করতে পারিনি। কাজের অগ্রগতি না থাকায় মেয়াদ বাড়ানোও সম্ভব হয়নি। সরকার পতনের পর যতটুকু কাজ করেছি, সেই বিলটা পেলে বাকি কাজটা করতে পারতাম।”

মুরাদনগর উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণ বলেন, “কাজটি ২০২৩ সালের হলেও ২০২৬ সাল পর্যন্ত এসে এর মাত্র ৪০ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। তাকে প্রথম চলতি বিল বাবদ ১৭ লাখ ৭২ হাজার টাকার সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন না করায় চুক্তি অনুযায়ী চলতি বিলে জরিমানা আরোপ করা হয়।”

তিনি আরও বলেন, “পরে ঠিকাদার কাজটি আর বাস্তবায়ন করবেন না জানিয়ে বাতিলের আবেদন করেন। এরপর এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে তার বাস্তবায়িত কাজের চূড়ান্ত মেজারমেন্ট করা হয়। কাজ বাতিলের সিদ্ধান্তের পর কাউকে চলতি বিল দেওয়ার সুযোগ নেই; কেবল চূড়ান্ত বিল প্রদান করা যায়। ঠিকাচুক্তি অনুযায়ী অবশিষ্ট কাজের ওপর ১০ শতাংশ জরিমানার বিধান থাকায় তাকে চলতি বিল দেওয়া সম্ভব হয়নি।”

উপজেলা প্রকৌশলী আরও অভিযোগ করেন, “ঠিকাদার নিজের গাফিলতি আড়াল করতে আমার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদপত্র ও মানববন্ধনের মাধ্যমে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ করছেন। তিনি ডিজাইন ও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন করেননি। নিজের দায় অন্যের ওপর চাপানো অত্যন্ত দুঃখজনক।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সুমন আরমান

মুরাদনগর উপজেলা, কুমিল্লা। পরিচালক ও প্রকাশক দেশ আমার 24 যোগাযোগ: +88 01820503698
ট্যাগস :

কুমিল্লার মুরাদনগরে নির্ধারিত সময়ের পরেও সড়কের কাজ না করেই বিল দাবি করেছেন এক যুবলীগ নেতা। বিল দাবি করেই ক্ষান্ত হননি তিনি। বিল এবং উপজেলা প্রকৌশলীর প্রত্যাহার দাবিতে করেছেন মানববন্ধনও।

আপডেট সময় : ০৯:৩৬:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

কুমিল্লার মুরাদনগরে নির্ধারিত সময়ের পরেও সড়কের কাজ না করেই বিল দাবি করেছেন এক যুবলীগ নেতা। বিল দাবি করেই ক্ষান্ত হননি তিনি। বিল এবং উপজেলা প্রকৌশলীর প্রত্যাহার দাবিতে করেছেন মানববন্ধনও।

এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি রজ্জব হোসেন রাজুর বিরুদ্ধে। সারাদেশে চলমান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেস টু’-তে আওয়ামী লীগের পদধারী নেতাকর্মীরা গ্রেফতার হলেও ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা রজ্জব হোসেন রাজু সর্বত্র দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। তারা আরও জানান, প্রশাসনকে বিতর্কিত করতে তিনি বিভিন্ন ছক কষছেন।

জানা যায়, ২০২৩ সালের ২ মার্চ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) থেকে মুরাদনগর উপজেলার দীঘিরপাড়–কুড়াখাল–ব্রাহ্মণচাপিতলা সড়কের ৮২২ মিটার সংস্কার ও উন্নয়ন কাজের অনুমোদন পায় যুবলীগ নেতা রজ্জব হোসেন রাজুর মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাহাত এন্টারপ্রাইজ। যার প্রাক্কলিত মূল্য ধরা হয় ৮৫ লাখ ৪৩ হাজার ১৯৭ টাকা।

চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ৯ মার্চ ২০২৩ তারিখে কাজ শুরু করে ৮ মার্চ ২০২৪ তারিখের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হলে প্রতিদিন নির্ধারিত মূল্যের ০.০৫ শতাংশ হারে জরিমানার বিধান রয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের পর আরও প্রায় ১৮ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কাজ শেষ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।

উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর প্রায় দুই বছর হতে চললেও কাজের অগ্রগতি হয়েছে টেনেটুনে মাত্র ৪০ শতাংশ। এই সময়ের মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ১৭ লাখ ৭২ হাজার টাকার বিলের জন্য সুপারিশ করা হয়। কিন্তু গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে ঠিকাদার জানান, তিনি এই সড়কের কাজটি আর করবেন না।

ঠিকাদারি চুক্তি অনুযায়ী বিলম্বজনিত জরিমানা ও বাস্তবায়িত কাজের বিল সমন্বয় করে সরকার ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রায় ৬ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। সরকারি পাওনা পরিশোধ না করে উল্টো উপজেলা প্রকৌশলী বিল দিচ্ছেন না—এমন অভিযোগ তুলে ঘুষ দাবির মিথ্যা নাটক সাজিয়ে মানববন্ধন করেছেন তিনি।

এদিকে, গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের কাজ তিন বছরেও শেষ না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় জনগণ। তাদের দাবি, সরকার মুরাদনগর উপজেলার মানোন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দিলেও এই যুবলীগ নেতার কারণে তারা এখনো এর সুফল পাননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার ও যুবলীগ নেতা রজ্জব হোসেন রাজু কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “কাজটি পাওয়ার পর আওয়ামী লীগের দলীয় লোকজনের বাধার কারণে আমি সঠিক সময়ে কাজ শেষ করতে পারিনি। কাজের অগ্রগতি না থাকায় মেয়াদ বাড়ানোও সম্ভব হয়নি। সরকার পতনের পর যতটুকু কাজ করেছি, সেই বিলটা পেলে বাকি কাজটা করতে পারতাম।”

মুরাদনগর উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণ বলেন, “কাজটি ২০২৩ সালের হলেও ২০২৬ সাল পর্যন্ত এসে এর মাত্র ৪০ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। তাকে প্রথম চলতি বিল বাবদ ১৭ লাখ ৭২ হাজার টাকার সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন না করায় চুক্তি অনুযায়ী চলতি বিলে জরিমানা আরোপ করা হয়।”

তিনি আরও বলেন, “পরে ঠিকাদার কাজটি আর বাস্তবায়ন করবেন না জানিয়ে বাতিলের আবেদন করেন। এরপর এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে তার বাস্তবায়িত কাজের চূড়ান্ত মেজারমেন্ট করা হয়। কাজ বাতিলের সিদ্ধান্তের পর কাউকে চলতি বিল দেওয়ার সুযোগ নেই; কেবল চূড়ান্ত বিল প্রদান করা যায়। ঠিকাচুক্তি অনুযায়ী অবশিষ্ট কাজের ওপর ১০ শতাংশ জরিমানার বিধান থাকায় তাকে চলতি বিল দেওয়া সম্ভব হয়নি।”

উপজেলা প্রকৌশলী আরও অভিযোগ করেন, “ঠিকাদার নিজের গাফিলতি আড়াল করতে আমার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদপত্র ও মানববন্ধনের মাধ্যমে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ করছেন। তিনি ডিজাইন ও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন করেননি। নিজের দায় অন্যের ওপর চাপানো অত্যন্ত দুঃখজনক।”